আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

আছে কোটি টাকা মূল্যের উন্নতমানের দুটি সি- এম্বুলেন্স। কিন্তু কোন অজানা কারণে সেবা পাচ্ছেন না সন্দ্বীপ উপজেলার “সারে চার লক্ষ মানুষ

 
মোঃ নেয়ামত উল্লাহ রিয়াদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামে বিছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ এ দ্বীপে যাতায়াতের এক মাত্র মাধ্যম হলো নদীপথ।
সড়ক পথে যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ দ্বীপে সারে- ৪ লাখ মানুষ।
নদী পথে রোগী পারাপারের জন্য ২০০৯ সাথে সর্ব প্রথম একটি সি-এম্বুলেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল মানে আজ পর্যন্ত একটি রোগীও সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম অথবা চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ আনা নেওয়া করা হয়নি।
এর পর গত বছর ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৬৪ লাখ টাকা ব্যায়ে রোগী পারাপারের জন্য আরো একটি আধুনিক সি -এম্বুলেন্স উপজেলা প্রশাসন কে দেওয়া হয়।
কিন্তু দুঃখে বিষয় আজ পর্যন্ত একটি রোগীও পারাপার করা হয় নি। এ নিয়ে দ্বীপ বাসীর ক্ষোভের শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক সহ প্রতিবাদ মানববন্ধন করে ও কোন লাভ হয় নি।
এই তো কিছু দিন আগে ফেইসবুকে রিয়াদ আদনান নামের এক ব্যক্তি রাগে ক্ষোভে লিখেছেন যেহুতু সি এম্বুলেন্স দুটি রোগী পারাপারের জন্য কোন কাজে আসছেনা তাই এই এম্বুলেন্স দুটি কে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ব্যাবহার করার ও দাবী জানান। আরেক ব্যক্তি লিখেছেন , আমি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত দেখে আসছি এই সি এম্বুলেন্স টি চর এর উপর পড়ে আছে, যেহুতু রোগী পরিবহনে কোন ভূমিকা নেই এ সি এম্বুলেন্সের তাই আমি চট্টগ্রাম আসা যাওয়ার সময় টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করি। এমনটাই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দ্বীপের বাসিন্দারা।
দ্বীপের চারপাশে নদী হওয়ায় ও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসার জন্য বাধ্যতা হয়ে চট্টগ্রাম পাড়ি দিতে হয়। এদিকে উপজেলা কর্মকর্তা বলেন সি এম্বুলেন্স থাকলেও এরজন্য নেই কোন চালক ও হেল্পার। এমনকি এম্বুলেন্সগুলো চালানোর জন্য কোন জ্বালানির বরাদ্দও নেই। তাই রোগী পরিবহনে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জরুরি রোগী হলেও সন্ধ্যার পর ও বর্ষায় সন্দ্বীপ থেকে কোন রোগী চট্টগ্রাম নেয়া সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ সময় দ্রুত চট্টগ্রাম নিতে না পারায় উন্নত চিকিৎসার অভাবে রোগী মারা যায়। কিছুদিন আগে সাপে কাটা এক কলেজ ছাত্রকে চট্টগ্রাম নেয়ার পরে মারা যায়। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি রোগীদের পরিবহনের জন্য হাসপাতাল থেকে স্ট্রেচার বা হুইল চেয়ার চাইলেও পাওয়া যায় না। ফলে রোগীদের পাঁজাকোলা করে উঠানামা করতে হয়। এতে করে রোগীরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন ।
গত ১২/০৯২০২০ তারিখে এক প্রসূতির বাচ্চা জন্ম দেয় সন্দ্বীপ মেডিকেল সেন্টারে। বাচ্চা এবং বাচ্চার মা অসুস্থ থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল তদের
এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সি এম্বুলেন্স না থাকায় কোলে করে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মা এবং শিশু দুজনেই মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন