আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্দ্বীপবাসীর এক বিশাল অংশ স্থায়ী আবাসন গড়ে তুলেছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্দ্বীপবাসীর এক বিশাল অংশ স্থায়ী আবাসন গড়ে তুলেছে। আজ নিউইয়র্ক সহ সারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সন্দ্বীপবাসীদের সংখ্যা প্রায় ত্রিশ হাজারের অধিক।নিউইয়র্ক ষ্টেটের ব্রুকলিন এ সবচেয়ে বেশী সংখ্যক সন্দ্বীপবাসীর বসবাস।
স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্থান আমলে অনেক সন্দ্বীপ বাসী জাহাজের নাবিক হিসাবে কাজ করার সুবাদে আমেরিকায় থেকে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে গেছেন। প্রথমে এখানে বেশিরভাগ লোক ছিল অবৈধ, গ্রীনকার্ড ছিল না। এক একজন একনাগাড়ে ২০/৩০ বছর পর্যন্ত কাগজপত্রহীন থেকে গেছেন।
অনেকেই কাগজ পত্র জমা দিয়ে গ্রিনকার্ড না পেয়ে হতাশ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন এবং অনেকেই বেঁচে নেই তার মধ্যে আমার পিতা ও একজন ।
কালক্রমে মানুষ এসব সমস্যা থেকে কেটে উঠেছে। গ্রীনকার্ড পেয়ে যারা বৈধতা পেয়েছেন এবং মার্কিন নাগরিকত্বও লাভ করেছেন তারা রক্তের সম্পর্কিত স্বজনদের আমেরিকা আনার অনুমতি পেয়ে নিজের স্ত্রী-ছেলেমেয়ে, ভাই-বোনদের আমেরিকা নিয়ে আসার সুযোগ পেয়ে গেছেন।
সন্দ্বীপবাসী পর্যায়ক্রমে নিউইয়র্কের সিটিতে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। অর্থ বিত্তে, ব্যবসা বাণিজ্যে সন্দ্বীপ বাসী অনেকদূর এগিয়েছে। এ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা এখানে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় ভাল ভাল চাকুরী করছে।
এখানে সন্দ্বীপবাসী গড়ে তুলেছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সবচেয়ে আদি সামাজিক সংগঠন হচ্ছে- সন্দ্বীপ এসোসিয়েশান উত্তর আমেরিকা। রাজনৈতিক কারনে সন্দ্বীপবাসী বিভক্ত হয়ে পড়লে পাল্টা সংগঠন তৈরী করে নিজেরা নিজেদের মধ্যে বিভক্তির দেয়াল রচনা করেছে।
সন্দ্বীপের প্রায় সব ইউনিয়নের মানুষ এখানে বসবাস করছে। ১৩টি ইউনিয়নের আবার ১৩টি আলাদা গ্রাম সমিতিও এখানে আছে। এই সমিতিগুলোর সদস্য কেবল ঐ গ্রামের লোকজন। প্রত্যেকে সদস্য হয়ে এই সমিতিতে চাঁদা দেয়। বছরে একবার পিকনিক করে। এভাবে তারা প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করে সন্দ্বীপে নিজ গ্রামের দরিদ্র অসহায় মানুষগুলোকে সাহায্য করে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপুর্ণ দিবস আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ শে ফেব্রুয়ারী, মহান স্বাধীনতা দিবস ২৬ শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর এখানকার সংগঠন গুলো অত্যন্ত জাকজমকের সাথে উদযাপন করে থাকে।
কখনও কখনও এখানে সুবিশাল ষ্ট্রিট ফেয়ার এর আয়োজন হয়। নিউইয়র্ক সিটি থেকে অনুমতি নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে এখানে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয় প্রতিবছর। বাংলাদেশের সেরা শিল্পীদের এখানে নিয়ে আসা হয় পারফর্ম করার জন্য। বিশেষ কোন গুরুত্বপূর্ণ দিবসে দেশের সেরা কোন ব্যক্তিত্বকেও আমন্ত্রন জানানো হয়।
ধর্মীয় অনুভুতিকেও এখানে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়। সন্দ্বীপবাসীর অর্থায়নে এখানে গড়ে উঠেছে মসজিদ মক্তব। বাচ্চাদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয় মসজিদ গুলোতে।
মুসলমানদের গুরুত্বপুর্ণ ধর্মীয় উৎসব যেমন পবিত্র রমজান শেষে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে বরাত, শবে কদর এখানে খুব উৎসব মুখর পরিবেশে পালন করা হয়। হাজার হাজার বাঙ্গালী ধর্মপ্রান মুসলমানেরা এতে অংশ নেয়। কখনও কখনও রাস্তা বন্ধ করে অনুমতি নিয়েই রাস্তার উপর একদম বাংলাদেশের আদলে ঈদের সুবিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
সন্দ্বীপবাসী জীবন জীবিকার তাগিদে এখানে এসে অনেক সংগ্রাম করে টাকা রোজগার করে নিজের সংসার ছেলেমেয়েদের পিছনে ব্যয় করে। আবার সেই টাকা থেকে দেশে রেখে আসা ভাই বোন মা বাবার জন্যও পাঠায়। এমনকি প্রবাসী সন্দ্বীপ বাসীরা নিজেদের আত্মীয় স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশীর সুখে দু:খে টাকা পয়সা পাঠিয়ে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করে।
Shahidullah.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন