আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

আমার এই স্ট্যাটাস কোন রাজনৈতিক বিশ্বাসে লেখা নয় বরং লিখছি শুধুমাত্র আমার ধর্মীয় বিশ্বাসে যার ব্যাপ্তি ক্ষনিকের ইহকাল এবং মৃত্যু পরবর্তি অনন্তকালের বিস্তৃত

আমার এই স্ট্যাটাস কোন রাজনৈতিক বিশ্বাসে লেখা নয় বরং লিখছি শুধুমাত্র আমার ধর্মীয় বিশ্বাসে যার ব্যাপ্তি ক্ষনিকের ইহকাল এবং মৃত্যু পরবর্তি অনন্তকালের বিস্তৃত ।
ইদানীং মূর্তি বা ভাষ্কর্য্য নিয়ে প্রচুর লেখালেখি মিছিল মামলা ইত্যাদি হচ্ছে।বাংলাদেশের সকল ভিন্নমতের আলেমরাও আজ ঐক্যবদ্ব্য মুর্তির বিরুদ্ধে।ধর্মপ্রান মানুষও আলেমদের পক্ষে শুধু তারা ব্যাতিরেকে যাদের কাছে ইসলামের নির্দেশের বিপরিতে সংকীর্ণ রাজনৈতিক পছন্দটাই বেশী প্রধান্য পায় এবং যাদের অন্তরে মূর্তির প্রতিচ্ছায়া প্রথিত।
একজন লোক ধুমপায়ি হতে পারে কিন্তু যখনই বলবে যে ধুমপান শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় তখনই বুঝতে হবে তার বোঝার মধ্যে সমস্যা রয়েছে। তেমনি একজন মুসলিম হিসাবে কোরান হাদীসের এত কঠিন নির্দেশনা জেনেও যদি কেউ মূর্তির পক্ষে অবস্হান নিয়ে এটাকে যায়েজ বলার চেষ্টা করে,তাহলে একই ভাবে বুঝতে হবে এদের মানসিক অবস্হানটা কোথায়।
কেউ কেউ পৃথিবীর নানা দেশের নানা মূর্তির উপমা দিয়ে যেভাবে মূর্তিকে Sculpture বলে যায়েজ দেখানোর চেষ্টা করছে ,তাদের এই চেষ্টা যদি তারা বুঝেশুনেই করে তবে তাদের প্রতিটি বাক্য প্রতিটি লেখনির দলিল নিয়েই স্রষ্টার কাছে জবাবদিহী করতে হবে।
আমরা সবাই জেনেশুনেই অনেক পাপ করে থাকি কিন্তু অনুশোচনা করে স্রষ্টার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করি, তাই বলে আল্লাহ ও নবীজীর কঠোর নির্দেশের বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়ে যদি পাপকে পুন্য বানানোর পক্ষে সোচ্চার হই তখন সেটা অন্য বিষয় হয়ে যায়।
কেউ হয়তো বলবেন শহীদ জিয়ারওতো মূর্তি রয়েছে।আমি তাই শুরুতেই বলেছি যে কোন রাজনৈতিক চিন্তাধারায় আমার এই লেখাটি লেখিনি এবং সকলের মূর্তির বিরুদ্বেই আমার অবস্হান।
আমাদের প্রিয়জন কেউ মারা গেলে তাকে ভালোবেসে তার উপকারে আসে যেটা, বা যেভাবে আমার বিশ্বাস শিখিয়েছে মৃতদের জন্য করতে ,মুসলমান হিসাবে আমরা সেভাবেই করি।আমরা প্রয়াত কোন প্রিয়জনের মোটা স্ট্যাচু বা বিশাল ছবি বাসার প্রতি রুমে রুমে লাগিয়ে রাখি না।
তেমনিভাবে মূর্তি না বানিয়ে বা মূর্তির পক্ষে চেচামেচি না করে প্রয়াত নেতার উপকারে আসে এমন কিছু করুন কিন্তু আল্লাহর কঠিন নির্দেশের বিরুদ্ধে অবস্হান নিলে একদিকে যেমনি প্রয়াত নেতার অপকার করা হবে অন্যদিকে নিজের জন্যও কঠিন শাস্তির দলিল সাথে নিয়ে যাবেন।
আল্লার তায়ালা সুরা হজ্ব আয়াত ৩০ বলেছেন,” তোমরা পরিহার করো অপবিত্র বস্তু অর্থাৎ মূর্তি সমুহ এবং পরিহার করো মিথ্যাকথন”।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসহুদ থেকে বর্নিত,নবী করিম (স:) বলেছেন “প্রতিকৃতি তৈরিকারী ( ভাষ্কর, চিত্রকর) শ্রেনি হলো ঐসব লোকদের অন্তরভুক্ত যাদেরকে কেয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।” সহীহ বুখারী ৫৯৫০।
এমনি অসংখ্য নির্দেশনা রয়েছে কোরান – হাদীসে।
অন্তত এই মরনব্যাধি মহামারির মাঝে আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার নির্দেশের বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়া থেকে হেফাজত করুন।আমীন
যারা অবিশ্বাসী তাদের জন্য আমার এই লেখা প্রযোজ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন