আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা থেকে সিলেটে বাড়ি ফেরার পথে এক পথ যাত্রীর মৃত্যু 

 
মোঃ মহিম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বাসের সিটেই মারা গেছেন মুহিম উদ্দিন (৫০) নামের এক ব্যক্তি। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের কান্দিগ্রামের (শাহ সাহেবের গাঁও) মৃত জবান আলীর পুত্র। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে ইউনিক পরিবহনের বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল পৌনে ৪টায় গাড়িটি নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছলে তিনি চলন্ত গাড়িতেই মারা যান।
মুহিম উদ্দিনের ভাতিজা শিশু মিয়া জানান, তার চাচা মুহিম উদ্দিন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অবস্থান করে প্রায় তিন বছর পূর্বে দেশে ফিরেন। এরপর থেকে একটি ট্রাভেলস্ এজেন্টের মাধ্যমে মিডিয়া হিসেবে তিনি সৌদি আরবে লোক প্রেরণ করে আসছিলেন। প্রবাসে লোক প্রেরণ বিষয়ে চট্টগ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী নুর হোসেনের প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থানরত জসিম ও মোজাম্মেল হোসেন বাপ্পি নামের দু’জনের সঙ্গে দেখা করে পাওনা টাকা আনতে গত মঙ্গলবার ঢাকা যান মুহিম উদ্দিন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি ওই দু’জনের সাক্ষাৎ না পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা হন এবং সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে ইউনিক পরিবহনের বাসে উঠেন।
বাসটি নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছলে পাশের সিটে বসা অপর যাত্রী দেখতে পান লোকটি (মুহিম) অজ্ঞান অবস্থায় আছে। বিষয়টি গাড়ির ড্রাইভারকে জানালে তাৎক্ষণিক গাড়িটি দাঁড় করেন। তখন গাড়িতে থাকা একজন যাত্রী (প্রাথমিক চিকিৎসক) ধারণা করেন মুহিম হার্ট অ্যাটাক করেন। গাড়িটি কিছুটা এগিয়ে একটি পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দাঁড়ালে যাত্রীরা বিষয়টি ফাঁড়ি পুলিশকে অবহিত করেন। তখন পুলিশ নিশ্চিত হয় যাত্রী মুহিম উদ্দিন মারা গেছেন।
এসময় যাত্রীরা মুহিম উদ্দিনের সঙ্গে পান দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২০ হাজার টাকা ও মানিব্যাগ। মুহিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল থেকে ডায়াল নাম্বারে ফোন করে তার ভাই রহিম উদ্দিনকে মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। একপর্যায়ে যাত্রীরা হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় একটি এ্যাম্বুলেন্সে করে বাসের সুপারভাইজারকে সাথে দিয়ে মুহিমের লাশ তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রমহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। মুহিম উদ্দিন ১পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক।
শিশু মিয়া বলেন, পাওনা টাকা আনতে আমার চাচা ঢাকা গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি টাকা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন এবং এই টেনশনেই হয়তো আমার চাচা মারা গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন