আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সোনামসজিদ বন্দরে গত ৭ মাসে ১৯৩ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়

 
ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত ৭ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩২৪ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। যা গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসের তুলনায় ১৯৩ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯৬ কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। যা গত অর্থ বছরের জানুয়ারীতে ছিল ৩৭ কোটি ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতিতেও জানুয়ারীতে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। করোনার শুরুতে গতবছরের মার্চ হতে বন্ধ থাকলেও গত ৭ মাস থেকে পর্যায়ক্রমে পণ্য আমদানি বাড়ছে ও রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। কারোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সোনামসজিদ বন্দরে প্রতিমাসেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি। আমদানি-রপ্তানী বৃদ্ধি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে সুযোগ সন্ধানি এক শ্রেণীর আমদানিকারক সিএন্ডএফ এজেন্টেরা রাজস্ব ফাঁকি দিতে সব সময় চেষ্টা করে আসছিল। বিশেষ করে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়াও গত ৭ মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি ছাড়করণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম জানান, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজনৈতিক কোন্দল ও মতানৈক্য থাকায় পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটে। যার প্রভাব অনেক সময় রাজস্ব বৃদ্ধির উপর পড়ে থাকে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, টানা ১২ বছর অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয়নি। ফলে সিএন্ডএফ এজেন্টরা এ বন্দর প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। এতে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আহরণে প্রভাব পড়েছে। গত নভেম্বর মাসে অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয়েছে। এরপর থেকে ব্যবসায়ীরা কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে আমদানি-রপ্তানি চালাচ্ছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে রাজস্ব। উন্নত সেবা ও ভারি যন্ত্রপাতি না থাকায় আমদানি-রপ্তানিকারকেরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছে। বৈষম্য দূর করা হলে বন্দরের ব্যবহার বাড়বে, বাড়বে রাজস্ব এমনটি দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন