আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

“মতানৈক্যের মাঝে মতৈক্য প্রতিষ্ঠাই ছিল মজলিসুল ওলামা গঠনের মূল লক্ষ্য।” -রাহবারে বায়তুশ শরফ

 
কামরুজ্জামান শিমুলঃ
চট্টগ্রাম ইছালে ছওয়াব মাহফিল থেকেঃ মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশ এর সম্মেলন ৬ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাতটায় কুমিরাঘোনা আখতরাবাদ বায়তুশ শরফ ইছালে সাওয়াব মাহফিল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মলনে উদ্বোধনী ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া লোহাগাড়া) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আল্লামা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক ও লেখক, মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশ এর সভাপতি, রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মোহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম.জি.আ)
মজলিসুল ওলামার বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মামুনুর রশিদ নুরীর পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পতেঙ্গা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলিমুল্লাহ, লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ড. মাহমুদুল হক ওসমানী, ঢাকা বায়তুশ শরফের খতিব মাওলানা জাফর আহমদ, চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আলম ফারুকী, অধ্যক্ষ মাওলানা কফিল উদ্দিন, মাওলানা আবু হানিফা মুহাম্মদ নোমান, মাওলানা আবু তৈয়্যব আলী মজিদী, মাওলানা ওসমানুল হক, মাওলানা কাজী শিহাব উদ্দিন, মাওলানা জিয়াউল হক আনছারী, মাওলানা লোকমান হাকিম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক ও লেখক, মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশ এর সভাপতি, রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মোহাম্মদ আবদুল হাই নদভী (ম.জি.আ) বলেন, আশির দশকের শেষের দিকে হঠাৎ দেশব্যাপী একদিকে ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির নানামুখী অপতৎপরতা, অন্যদিকে আলেম – ওলামাদের মাঝে পারস্পরিক হানাহানি, রেষারেষি, গালাগালি, কাফির ফতোয়া সংস্কৃতি ব্যাপক রূপ ধারণ করলে বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার, মুজাদ্দিদে যামান আল্লামা শাহসুফি আবদুল জব্বার (রাহঃ) অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েন। রাজনীতির উর্ধে থেকে সব হক্কানি আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখের ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি দীর্ঘ সাংগঠনিক সফর ও জটিল পথপরিক্রমা অতিক্রম করে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইত্তেহাদুল উম্মাহ বাংলাদেশ। মহল বিশেষের অসহযোগিতা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও তিনি থমকে দাঁড়াননি- ১৯৯৮ সালে গঠন করেন মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশ। আল্লামা আবদুল হাই নদভী বলেন, মতানৈক্যের মাঝে মতৈক্য প্রতিষ্ঠাই ছিল মজলিসুল ওলামা গঠনের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আলেম সমাজের ঐক্যের ক্ষেত্রে অবশ্যই অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা এবং অন্যের কথা শোনার মতো মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখতে হবে। তাহলেই হতে পারে আলেম সমাজের ঐক্য। তিনি আরো বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু ইসলামের মৌলিক বিষয়ে আনুগত্য ও আস্থাশীল থাকলে ক্ষুদ্র মতপার্থক্য ঐক্যের পথে বাধার প্রাচীর হতে পারেনা। তাই সময়ের দাবি হচ্ছে, রাজনীতির উর্ধে থেকে সব হক্কানি ওলামা-পীর-মাশায়েখের ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন