আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বই পড়া

গত বছর জাতির পিতার জন্মদিনে ঘোষণা দিয়েছিলাম মুজিববর্ষে ১০০ বই পড়বো। শুরুও করেছিলাম। এমনকি বই নিয়ে পাঠপ্রতিক্রয়াও লিখেছি। ৪৩টি বই পাঠের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিলাম। এসব-ই ২০২০ সালের ঘটনা।
মুজিববর্ষে শতবই পাঠ যখন শুরু করি, তখন পৃথিবীর অসুখ চলছিল। ঘরে প্রায় বন্দি জীবন কাটছিল। বই পড়া ও লেখা দুটোর জন্যই অফুরন্ত সময় ও সুযোগ ছিল। ধীরে ধীরে পৃথিবীর অসুখ কমতে শুরু করতেই জীবন ও কর্ম হয়ে ওঠলো বহির্মুখী। লেখা দূরের কথা পড়াতেই আলসেমি পেয়ে বসলো। কচ্ছপ গতিতে পড়া চালাতে পারলেও লেখা সম্ভব হয় নি। শুধু নোট নেয়া, মার্ক করা এরকম কিছু প্রাথমিক কাজ সেরে রাখতে পেরেছি অবশ্য। কিছু বই নিয়ে লেখা প্রায় চুড়ান্ত করলেও ফেসবুকে দেয়া হয়নি। ক্রম রক্ষা করতে না পারা সহ আরও কিছু ব্যক্তিগত কারণে। এই করে করে খেয়াল করলাম, পারফেকশনিস্টদের যেসব সমস্যা ও সংশয় থাকে, আমার মধ্যে এসবের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ উদ্বেগের জীবন কাটাতে হচ্ছে!
যাহোক, এমন সময়ে এই আলসেমিকে শক্ত ভিত্তি দান করলো খোদ সরকার। মুজিববর্ষের সময়সীমা বৃদ্ধি করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর নাগাদ দীর্ঘায়িত করে।
এসবের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি পড়া বইগুলো আজকে উলটপালট করে দেখলাম। প্রকাশিত ৪৩ সংখ্যাটা আজ দেখছি ৭৬-তে পৌঁছে গেছে।
 
৪৪। স্মৃতিটুকু থাক/ কবরী, বিপিএল প্রকাশনী
৪৫। দিনপঞ্জি একাত্তর/ মাহমুদ হাসান, মাওলা
৪৬। ঘাতকের দিনলিপি/ রমেন বিশ্বাস, সুচয়নী পাবলিকেশন্স
৪৭। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ইতিকথা/ এডভোকেট আহমেদ আলী, ঐতিহ্য
৪৮। মুজিববাদ/ খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, শ্রাবণ
৪৯। নভেম্বর ১৯৭৫/ নজরুল সৈয়দ, ঐতিহ্য
৫০। কেমন আছে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান/ মিলন দত্ত, প্রথমা
৫১। মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনী/ হায়দার জাহান চৌধুরী, আবিস্কার
৫২। সংবিধানের রাজনৈতিক বিতর্ক/ আমীন আল রশীদ, ঐতিহ্য
৫৩। বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ/ সনৎকুমার সাহা, কথাপ্রকাশ
৫৪। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা: শিক্ষা ও সমাজ চিন্তা/ ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, এশিয়াটিক সোসাইটি
৫৫। শতাব্দীর সাথে সাতচল্লিশ বছর/ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, অ্যাডর্ন
৫৬। জার্নাল ৭১/ বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, সময়
৫৭। পুরনো ঢাকার হারানো দিন/ মীর ফজলুল হক, সুবর্ণ
৫৮। কুমির চাষির ডাইরি/ মুশতাক আহমেদ, স্বরে অ
৫৯। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব/ নূহ উল আলম লেনিন, বাংলা একাডেমি
৬০। স্বাধীনতার পথে বঙ্গবন্ধু: পরিপ্রেক্ষিত ১৯৭০-এর নির্বাচন/ মুর্শিদা বিনতে রহমান, বাংলা একাডেমি
৬১। মুক্তিযুদ্ধ: অজানা অধ্যায়/ নাদীম কাদির, জাগৃতি
৬২। প্রতিনায়ক: সিরাজুল আলম খান/ মহিউদ্দিন আহমদ, প্রথমা
৬৩। লাল সন্ত্রাস: সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা রাজনীতি/ মহিউদ্দিন আহমদ, বাতিঘর
৬৪। মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস/ মে জে এম এস এ ভূঁইয়া, আহমদ পাবলিশিং হাউস
৬৫। মুজিব ও সমকালীন রাজনীতি/ জাওয়াদুল করিম, আগামী
৬৬। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: কাছে থেকে দেখা/ নুরুল ইসলাম, প্রথমা
৬৭। রাত্রির রং বিবাহ/ অরবিন্দ চক্রবর্তী, বেহুলা বাংলা
৬৮। বাংলাদেশের রাজনীতি:১৮৭৫ থেকে ৮১/ গোলাম কুদ্দুছ, হাতেখড়ি
৬৯। মুক্তিযুদ্ধে আফসার বাহিনী/ শাহজাহান মিয়া, আফসার ব্রাদার্স
৭০। একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়, মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র
৭১। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ/ সৈয়দ লুৎফুল হক, তরফদার
৭২। রশীদ করীমের সাক্ষাৎকারগুচ্ছ/ হামিদ কায়সার ও পিয়াস মজিদ, অনন্যা
৭৩। একাত্তরের নয় মাস/ রাবেয়া খাতুন, আগামী
৭৪। চিৎকার রণিত হৃৎপিণ্ডে/ মাজহার সরকার, চন্দ্রবিন্দু
৭৫। আত্মপ্রতিকৃতি/ হাসিবুর রেজা কল্লোল, অনন্যা
৭৬। খুনের আগে ও পরে/ মঈনুল আহসান সাবের, অরিত্র
আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা, সাক্ষাৎকার, কবিতা, উপন্যাস, নন-ফিকশন এরকম নানান রকমের বই আছে। ইচ্ছে হলে পড়ি, ভালো লাগলে পড়ি, প্রয়োজন হলে পড়ি, ঘুম না হলে পড়ি, লেখকের অনুরোধে পড়ি, সময়-সুযোগ পেলে পড়ি, কেউ মারা গেলে তাঁর বই পড়ি(সর্বশেষ কবরী’র স্মৃতিটুক থাক শেষ করেছি গতরাতে); এরকম নানান কারণে আমি বই পড়ি। এমনকি কাজ মনে করেও পড়ি এবং ভালো পাঠক হবার জন্যও পড়ি
 
বিশ্ব বই দিবস
প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল পালিত হয়। ১৯৯৫ সাল ইউনেস্কো প্রথম এটা উদযাপন করেছিল।
বেশ ক’বছর ধরে দিবসটিতে আমি বই সংক্রান্ত কিছু করার চেষ্টা করি। বিশেষত বই গোছানো, বই পরিস্কার করা, শেলফ পরিস্কার করা, ধার দেয়া বইগুলোর হদিশ করা, প্রয়োজনীয় বা শখের বশে সংগ্রহ করবো এমন বইগুলোর তালিকা রিভাইজ করা, কাউকে গিফট দেবার প্রমিজ আছে কি-না ইত্যাদি। আজও এরকম কিছু কাজ করলাম।
সবাইকে বই দিবসের শুভেচ্ছা।
 
লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন