আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের দু’পাশে শতশত সরকারী গাছ কেটে সাবাড়

টেন্ডারের নামে কয়েক হাজার সরকারী গাছ কেটে কোটি টাকার হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত সড়কের দু’পাশের গাছ প্রকাশ্য দিবা লোকে কেটে সাবাড় করছেন নামধারী ঠিকাদারের লোকজন। যেখানে গাছগুলোতে নেই কোন টেন্ডারকৃত সিল। কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করেই সুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েই উজাড় হচ্ছে গাছগুলির কেটে ফেলার কার্যক্রম। প্রশাষনের নজর এড়িয়ে টেন্ডারের শর্ত এড়িয়ে কাটা হচ্ছে সড়কের পাশে থাকা বড় বড় মুল্যবান দামী সরকারী গাছ গুলি। ফলে কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্জিত হচ্ছেন সরকার।
 
মহাসড়কের দুই পাশে বড় বড় বিভিন্ন প্রকার মেহেগুনি, রেনট্রি, খৈয়া বাবলা গাছ সহ হাজার হাজার গাছের খন্ড পড়ে আছে। গত কয়েকদিন ধরেই সড়কের দুই পাশের সরকারী সীল বিহীন হাজারো গাছ প্রকাশ্য দিবা লোকে কেটে ট্রাকে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন জনৈক নামধারী ঠিকাদার বরিশাল ভোলার সুমন ও তার লোকজন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল ভুরঘাটা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে ২৮৩ টি গাছের টেন্ডার ৭/৮টি ভাগে  মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দেওয়া হয়েছে। যারমধ্যে ভাঙ্গা থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ১৬৯টি গাছে মাত্র ১ লাখ টাকায় টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায় ১৬৯টি গাছের পরিবর্তে ঠিকাদারের লোকজন সীল বিহীন হাজারো মুল্যবান গাছে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে ১টি গাছের মুল্য রয়েছে কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকা। সেখানে প্রতিদিনই কেটে সাবাড় করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার মুল্যের সরকারী গাছ। এতে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্জিত হচ্ছে।  অপর দিকে পরিবেশের মারাত্বক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে।
 
গাছ কাটার সময়ে শ্রমিক মনির মিয়া জানান, আমরা গাছ ভর্তি প্রতি ট্রাকের জন্য ৫ হাজার টাকায় ঠিকাদার সুমনের কাছ থেকে কন্ট্রাক নিয়েছি। আমরা প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫টি ট্রাক গাছ ভরে যশোর ও কুষ্টিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছি। এই পর্যন্ত আমরা গাছ ও ডালপালা সহ ২ হাজারের বেশী গাছ কেটেছি।
 
এবিষয় ঠিকাদার সুমন জানান, আমি কিছুই জানি না। আপনারা ঠিকাদার আব্দুল খালেক মিয়ার সাথে কথা বলেন। পরে এবিষয় জানতে আব্দুল খালেক মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
 
ভাঙ্গা সড়ক ও জনপদের এসও আনিচ জানান, আমি গাছ কাটার বিষয় তেমন কিছু জানি না। গাছকাটা ও রোপন করা এটা আলাদা দপ্তরের কাজ। এ বিষয় আপনী আব্দুল আজিজ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন।
 
এ বিসয় সড়ক ও জনপদের ১১ জেলার এ্যাগ্রীকালচারাল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ জানান, আমরা ৭/৮জন কর্মকর্তারা মিলে মোট ১৮৩টি গাছের টেন্ডার দিয়েছি। এই টেন্ডরের মধ্যে শুধু মাত্র সড়কের পাশে থাকা মরা গাছ বা ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ রয়েছে। টেন্ডারটি ঢাকা মিরপুরের পাইকপাড়া অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকার টেন্ডার হয়েছে আমার মনে নাই। টেন্ডারের শর্তের বাহিরে গাছ কাটা হলে সে বিসয় ক্ষতিয়ে দেখা হবে

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন