আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর জন্ম ১৯৪২ সালের ২২ এপ্রিল পিতৃভূমি শেরপুরের চন্দকোনা থানার বন্দটেকি গ্রামে। তবে বড় হয়েছেন পিতার কর্মস্থল ময়মনসিংহ শহরে।
 
সেখান থেকে এইচএসসি শেষ করে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর করে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ভারতেশ্বরী হোমসে।
দুবছর পর তখনকার ঢাকা ইংলিশ প্রিপারেটরি স্কুলে (বর্তমানের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়) যোগ দেন।
 
১৯৬৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আলীম চৌধুরীর সঙ্গে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।
 
একাত্তরে এই পরিবারটি গোপনে মুক্তিযুদ্ধে নানা সহযোগিতা দিয়েছেন। তাই ডা. আলীমকে রাজশাহী মেডিকেলে বদলি করে দেয় তখনকার প্রশাসন।
 
তিনি পরে পরিবারের সমস্যার কথা বলে ঢাকার সলিমুল্লাহ কলেজে বদলি হন।তখন তিনি ছিলেন এসোসিয়েট প্রফেসর।
 
একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ডা. আলীমকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। বধ্যভূমিতে দেশের অন্যান্য সূর্যসন্তানদের সঙ্গে তার লাশও পাওয়া যায়।
 
এসবকিছুরই নেপথ্যে মুখ্য ভুমিকায় ছিলেন ইনকিলাবের মাওলানা মান্নান।
 
স্বাধীনতার পর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর শুরু হয় একাকী সংগ্রাম।
 
উদয়ন স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘ ৩৬ বছর। এগোরো বছর ছিলেন হেডমিস্ট্রেস।
 
২০০০ সালে স্কুলটিকে কলেজে উন্নীত করে নাম দেন উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।বছর দেড়েক এখানে প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন।
 
২০০২ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি চাকরিচ্যুত হন।
 
এরপর ক’জন সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে মিলে ঢাকার লালমাটিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন উদ্দীপন বিদ্যালয়। এখন তিনি এ স্কুলের হেডমিস্ট্রেস।
 
শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী ২০০১ সালে শিক্ষায় একুশে পদক পেয়েছেন। তার লেখা বইয়ের সংখ্যা ১৩ এর অধিক। সবই মুক্তিযুদ্ধের ওপর উপন্যাস, ছোটগল্প ও স্মৃতিচারণমূলক লেখা।
 
বিএসএমএমইউ এর চক্ষু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী ডা. আলীম-শ্যামলী দম্পতির সুযোগ্যা কন্যা।
 
ফেসবুক পরিবারের পক্ষে তার জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।
 
লেখকের ফেসবুক থেকে  সংগৃহিত

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন