আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা-নির্মমতা! কেটে ফেলা হয়েছে ২ শতাধিক আম গাছ

ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন কলেজ শিক্ষকের ৬ বিঘা জমিতে লাগানো বাগানের প্রায় ২ শতাধিক আম গাছ রাতের আধারে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (১০ আগষ্ট) দিবাগত রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ৪ ও ৫ নং বাঁধের মধ্যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার হাট-রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে কামারুজ্জামান কৃষ্ণগোবিন্দপুর কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে সন্মানের সহিত কর্মরত আছেন। শখের বসে ঐ এলাকায় নানান প্রজাতির আম্রপালি, গৌরমতি, বারি-৪, রুপালি, হীমসাগর সহ নাবি জাতের আমের সৌখিন বাগান গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ৮/১০ বছর বয়সের এই বাগানে বেশিরভাগ গাছেই এবার প্রচুর আম এসেছিল। তিল তিল করে গড়ে তোলা তার বাগান রাতের আঁধারে শত্রুতা করে নিমিষেই কেটে দিল একদল দুর্বৃত্ত।

কলেজ শিক্ষক কামারুজ্জামান জানান, বাড়ির পাশের কলেজে চাকুরি করার সুবাদে বেশিরভাগ সময় অবসরে বাড়িতে থাকা হতো, সেই সুত্রে অধিকাংশ সময় বাগানে এসকল আম গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকতাম। আমার সাথে কারো কোন শত্রুতা নেই তবে হিংসাবশত কেউ শত্রুতা করেছে আমার বাগানের গাছের সাথে। তিনি কথা বলার এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার সন্তানের মত করে তিলে তিলে গড়ে তোলা গাছ গুলো কেটে আমার বুকের পাঁজর ভেঙে দিয়েছে। প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে তারা। মানসিকভাবে আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, এই এলাকার আম বাগান গুলো সুরক্ষার জন্য গত ২০১৮ সালে রানিহাটী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মহসিন আলির পরামর্শক্রমে বাগান সুরক্ষা কমিটি গঠন করি। যার সভাপতি হলেন ধুমিহায়াতপুর (উপর ধুমি) গ্রামের আলহাজ্ব মোঃ আকবর আলি বিশ্বাস,
এবং আমি এখন পর্যন্ত এই কমিটির কোষাধ্যক্ষর দায়িত্ব পালন করে আসছি। কয়েক বছর থেকে আমার আম বাগান এলাকায় গরুর পালের মালিক ও রাখাল গরু ঢুকিয়ে ব্যপক ক্ষতি সাধন করেন। নিষেধ করতে গেলে তারা উচ্চ বাচ্য করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। বাধ্য হয়ে বাগান সুরক্ষা কমিটির সদস্যদের সাথে আলোচনা করে এলাকায় মাইকিং করা হয় বাগান এলাকায় গরু না চরানোর জন্য। এতে করে গরুর পালের মালিক পক্ষ ও রাখালেরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাতের আধারে গাছ কেটে ফেলেছে।

আইনের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে কঠোর স্বাস্তির দাবি করেন তিনি। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ এধরণের অমানবিক, জঘন্য কাজ করতে না পারেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ঘটনারস্থল পরিদর্শন করেছি, কে বা কাহারা রাতের আঁধারে বাগানের গাছগুলো কেটে অপূরুনীয় ক্ষতি করেছে, তা সনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঘোড়াপাখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ও রানিহাটী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহসিন আলি বলেন, রাতের আঁধারে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি শুনে আসামিদের চিহ্নিত করার জন্য ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যারা এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর ভাবে গাছ গুলো কেটে ফেলেছে তাদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক স্বাস্তি দাবি করছি।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এ কেমন নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতা রাতের আধারে এভাবে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে? সত্যি এটা আমাদের জন্য কষ্টের ও লজ্জার ব্যপার। কেউ এবিষয়ে অভিযোগ করেনি, তবে করলে অপরাধী যেই হোক ছাড় নেই, তাকে খুঁজে বের করে কঠোর ভাবে, দৃষ্টান্ত মূলক স্বাস্তির ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন