আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জমিজমার বিরোধে আটকে রাখলো লাশ, পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন

ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জমিজমার বিরোধের জেরে নিহতের স্বজনরা লাশ কবর দিতে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি খুড়া কবর মাটি ভরাট ও বিভিন্ন উপকরণ ভাংচুর করে। এমনকি বাড়িতেও হামলা চালায় নিহতের বোনের পরিবারের সদস্যরা ও গ্রামবাসী। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে মারা যাবার একদিন পর লাশ দাফন করা হয়েছে। সোমবার (৩০ আগষ্ট) শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘী মহাজনপাড়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

নিহতের পরিবার, আটকে রাখা আত্মীয় স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে
রবিবার (২৯ আগষ্ট) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় হাজারবিঘী মহাজনপাড়া গ্রামের আতাউর রহমান জেমের স্ত্রী জাহেরা বেগম। পরে রামেক হাসপাতাল থেকে বিকেল ৫টার দিকে বাসায় লাশ নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর বিপত্তি বাঁধে নিহত জাহেরার বোন তাহেরা বেগমের পরিবারের সদস্যদের। লাশ দাফনে বাঁধা দেয় তারা।

জানা যায়, লাশ দাফনে বাঁধা দেয়ার পাশাপাশি নিহত জাহেরা বেগমের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় তারা। আত্মরক্ষায় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে রাত ৯টায় পুলিশ উপস্থিত হয়। পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। লাশ ওই অবস্থায় রেখেই রাত ১২টায় ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায় পুলিশ৷ পরেরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে। লাঠিচার্জে তাহেরার একজন নিকটাত্মীয় নিশান আলি গুরুতর আহত হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় কোন বাসিন্দা বা মসজিদের ইমাম ছাড়াই পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় নিহতের কয়েকজন নিকটাত্মীয় লাশ দাফন করে।

নিহত জাহেরা বেগমের স্বামী আতাউর রহমান জেম বলেন, রাজশাহীতে মারা যাবার পর মোবাইলে খবর দিয়ে কবর খুঁড়তে বলি। কয়েকজন আত্মীয় স্বজন গিয়ে কবর খুড়ে আসে। কিন্তু আমার স্ত্রীর বোনের পরিবারের লোকজন লাশ দাফন করতে বাঁধা দেয়। এমনকি কবরে মাটি ভরাট করে কবরের পাটাতন ও বাঁশের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে চলে যায়। এমনকি বাড়িতেও ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে তারা। পরে পুলিশ সহযোগিতা নিয়ে লাশ দাফন করেছি। আমার শাশুড়ীর ৩ কাঠা মাটির উপর একটি বাড়ি লিখে নেয়ার দাবি তাদের। সেটিও লিখে দিতে চেয়েছি, তবুও লাশ দাফন করতে দেয়নি।

নিহতের বড় বোন ও লাশ দাফনে বাধাদানকারী তাহেরা বেগম এবং তার পরিবারের লোকজনের দাবি, মায়ের বেশকিছু জমি বিভিন্ন কায়দায় লিখে নিয়েছে ছোট বোন নিহত জাহেরা বেগম। তাই লাশ দাফনে বাঁধা দেয়া হয়েছে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে। কারন দাফন করা সম্পন্ন হয়ে গেলে আর জমিগুলোর ব্যাপারে কোন কথা বলবে না তারা। এমনকি আমাদের বাড়িও ভাগ করতে চাইছে।

এবিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি- তদন্ত) আব্দুল মালেক বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলার কারনে মারা যাবার পরেও নিহতের কিছু স্বজনরা লাশ দাফনে বাঁধা দেয়। মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ দাফন সম্পন্ন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন