আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাই কর্তৃক ভাইকে পিটিয়ে যখম এর অভিযোগ। আদালতে মামলার প্রস্তুতি

ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেঃ


চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরায় ভাই কর্তৃক ভাইকে পিটিয়ে যখম করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী ব্যক্তি হলো মনিরুল আলম মিয়া। তিনি জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা-মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত মসিউর রহমান মিঞার ছেলে।

তিনি জানান, আমার আপন ভাই সাদিরুল আলম শাহীন আমার ছবি ব্যবহার করে একটি ফেইক ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছবি দিয়ে ঐ ফেইক আইডি থেকে আজেবাজে কথাবার্তা ও ছবি পোস্ট করে। বিষয়টা আমি জানতে পেরে তাকে বললে সে আমায় আজেবাজে ও অশ্লিল ভাষায় কথা ও গালিগালাজ করে।

এরই জের ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি গত রবিবার (২২ আগস্ট) রাত্রি সোয়া ৮ টার দিকে হারুন খাঁর ছেলে রেজাউল ইসলাম খাঁর ভ্যানে চড়ে এসে, সাদিরুল আলম শাহীন (৪৮) র নেতৃত্বে তার ছেলে ফারহান হাসিন উদয় (২০) সহ একই এলাকার কাসেম খাঁর ছেলে কালু খাঁ (৩৮), মৃত মীর তোফেল আলির পালিত ছেলে ফিরোজ আলী (৪৪) আমনুরা, সেতুপাড়া- কদমতলা মোড়ে টনির চায়ের ষ্টলে লাঠি, লোহার রড সহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আমাকে মারাত্মক যখম করে।
আমি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলাকাবাসী উদ্ধার করে আমাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

মনিরুল আলম আরো জানান, সাদিরুল আলম শাহীন, আমার বড় ভাই বদরুল আলম মিয়া (৭৩) ও মেজ ভাই অবসর প্রাপ্ত রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার খাইরুল আলম মিয়া (৫৮) কেও মারতে গিয়েছে।

সেই সাথে তার ভগ্নীপতি আব্দুল কাইয়ুম অর্থাৎ, নিজের ছোট বোনের স্বামীকেও মারধর, কুপিয়ে যখম ও সেই সাথে প্রাণনাশের হুমকী দেন। তিনি আরো বলেন, সে ভূয়া ইউএনও সেজে নুরতাজ হোটেলের মালিক মুনতাজকে হুমকী দেয় এবং এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে চাঁদা দাবী করে থাকে।

এবিষয়ে এলাকায় তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আছে বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগী মনিরুল আলম আরও জানান, আমি কয়েকদিন থেকে থানায় মামলা করার জন্য গিয়েও মামলা রেকর্ড হয়নি, বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সাদিরুল আলম শাহীন জানান, মনিরুল আলম আমার আপন ভাই, তার এ সকল অভিযোগের কোনো ভিত্তি নাই। বরং আমার ভাই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সময়ে-অসময়ে আমাকে গালিগালাজ করে। মারধোর করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে মাত্র। পড়ে গিয়ে আমিও আঘাত প্রাপ্ত হয়েছি। আমার হাতেও চোট লেগেছে।
এটা আমাদের ভাই-ভাইয়ের বিষয় তাই মিমাংসার প্রক্রিয়া চলছে। এবিষয়ে এই প্রতিবেদককে নিউজ না করার অনুরোধ জানান তিনি।

এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, মনিরুল আলম এবং সাহিন তারা আপন দুই ভাই। দুই ভাই এজাহার জমা দিলেও মিমাংসার স্বার্থে তারাই মামলা রেকর্ড করতে নিষেধ করেছিলো। মামলা নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। মামলা রেকর্ড হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আপন ভাই-ভাইয়ে বিরোধ না বাড়িয়ে মিমাংসা হয়ে যাওয়ায় ভালো বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন