আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ব্যাংকের ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে অবস্থান ধমর্ঘট করেছে ভূক্তভোগীরা

মো. মুবিনুল হক মুবিন, নাইক্ষ্যংছড়ি।।


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী কৃষি ব্যাংকে ঘুষ লেন-দেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

   তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার সারা দিন ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে অবস্থান ধমর্ঘট করেছে ভূক্তভোগীরা। তারা ব্যাংকের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ পযর্ন্ত পযর্ন্ত অবস্থান ধর্মঘট করেছে অনেক ভূক্তভোগী। 

  এ সময় বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও মেম্বার নুরুল আজিম, মেম্বার সাবেকুন্নাহার ঘটনাস্থলে তাদের শান্তনা-ও আশ্বস্থ করে নিবৃত করে সরিয়ে দেন তাদেরকে। 

    তাদের দাবী,ঋণ নিতে লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ঋণ দিতে হয়েছে, যা তাদেরকে এ টাকা ফেরত দিতে হবে , নামে বেনামে ঋণ দিয়ে নিরীহদের হয়রানী করা হচ্ছে,ভূঁয়া এনআইডি তৈরী করে ঋণ দেয়ার কাজে ফিল্ড অফিসার-ম্যানেজার-দালাল এসব করে ব্যবসা করছে। 

 যা অমানবিক, যার শাস্তি চায় তারা।  আর এসব অভিযোগ করেছেন সেখানকার কৃষককূল। শিল্প এলাকার একমাত্র ব্যাংক হওয়ায় বাধ্য হয়ে এলাকার হাজার হাজার কৃষক এ ব্যাংকে যান আর ঋণ নেন। এ সব অভিযোগ এলাকার অসংখ্য ভূক্তভোগী কৃষকের। স্থানীয় কৃষক নূরুল হুদা,জহির আলম, আবু তাহের, জসিম উদ্দিন, নুরুল হক, শাকিল আহমদ, মিজান, মুনিরুল ও জসিম উদ্দিন (২) সহ অনেকের এক দাবী ঘুষ দিয়ে কৃষি ঋণ নিয়েছেন তারা। 

     মধ্যম বাইশারীর নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি কৃষি ঋণ নিয়েছেন ১ লাখ টাকা। তাকে ফিল্ড অফিসার সূ্বির কান্তি পালকে ঘুষ দিতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। লম্বাবিলের মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে নুরুল বলেন, তিনি দেড় লাখ টাকা ঋণ নিতে সেই ফিল্ড অফিসারকে  ৩০ হাজার ঘুষ দিতে বাধ্য হন।  

   উত্তর বাইশারীর মো. ঈসমাইলের ছেলে মো. শাকিল জানান, সে ঋণ নেন ৭০ হাজার টাকায় ঘুষ দিয়েছেন ১৪ হাজার টাকা। এভাবে এ ব্যাংক থেকে যারা ঘুষ নিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই মোটা অংকের টাকা দিয়ে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। 

  স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতারা বলেন, সরকার চান কৃষকের উন্নয়ন। আর কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার ফিল্ড অফিসারসহ দূর্নীতিবাজরা চান নিজের উন্নয়ন। কৃষি নির্ভর বাইশারীর নিরীহ লোকজন থেকে ঘুষ নিতে বা টাকা কেড়ে নিতে এ সব শিক্ষিত ঘুষখোরদের লজ্জা লাগে নি।

   নিজেরা এনআইডি কার্ড বানিয়ে,ভূয়া কাগজ-পত্র সৃষ্টি করিয়ে ঋণের টাকায় ভাগ বসানো আজ ওপেন সিক্রেট। তিনি আরো বলেন ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃর্ত্বে ফিল্ড অফিসার সুবির কান্তি দাশ মিলে এভাবে ঘুষের  আয়োজন,মেনে নেয়া যায় না। তিনি দূদক সহ সরকারের দূনীর্তি বিরোধী সংস্থা গুলোকে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে আহবান জানান।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত ম্যানেজার জাহাঙ্গির আলম বলেন, যেভাবে অভিযোগ করা গিয়েছে তা সঠিক না। হয়ত মানবিক কিছু দোষ আছে। এটা বড় করে দেখা ভালো মনে করছেন না তিনি। তবে ক'দিন আগে আর এম ও বাইশারীতে অত্র ব্যাংকে আসার কথা স্বীকার করেন। আর ফিল্ড অফিসার সুবীরকে অন্যত্র বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

এমন কী তার নিজের বদলীও হবে বলে জানান এ প্রতিবেদককে।

  অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার সুবীর কান্তি দাশ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক না। তার মানবিক দোষ আছে ঠিকই। জোর করে কারো কাছ থেকে তিনি ঘুষ বা টাকা নেননি। বান্দরবান কৃষি ব্যাংকের আরএমও ভূপাতি রঞ্জন দাশ বলেন, একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বাইশারী কৃষি ব্যাংকে সরেজমিন তদন্ত করে কিছু প্রমাণ পেয়েছেন। এ কারণে সুবীর কান্তিকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। ম্যানেজারও দায়ভার এড়াতে পারে না, সুতরাং তাকে পর্যায় ক্রমে এখান থেকে সরানো হবে। 

   বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আলম কেম্পানী বলেন, আরএমও'র তদন্তকালে তিনি কিছু সময় ব্যাংকে ছিলেন।  ভূঁয়া আইডি কার্ড ও চেয়ারম্যান সনদের ব্যাপারে যা শুনেছেন তাতে তিনি হতবাক হয়েছেন।

সংবাদ প্রেরক-
মোঃ মুবিনুল হক মুবিন ,
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি
মোবাইল নং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন