আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুরহাটে আজও ফুটপাতে চুল দাড়ি কাটছেন নাপিত

ফয়সাল আজম অপু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুরহাটে বাপ-দাদার পেশাকে আজও আকড়ে ধরে রেখেছেন নর সুন্দররা। সব শ্রেণী-পেশার মানুষ অন্যের কাছে নিজেকে সুন্দর রুপে উপস্থাপন করতে ব্যস্ত। মানুষকে চুল-দাড়ি কেটে দেখতে সুন্দর করা যাদের কাজ তারাই নর সুন্দর। আঞ্চলিক ভাষায় তাদের বলা হয় শীল বা নাপিত।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে হাটে-বাজারের ফুটপাতে পিড়িতে বসা এই সেলুনগুলো। বর্তমান সময়ে বড় বড় মার্কেটে ঘর সাজিয়ে এমন কি শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে নর সুন্দররা মানুষের চুল কাটার কাজ করছেন। মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম উপকরণ চুল। আর এই চুল নিয়ে যুগে যুগে মানুষের ভাবনার অন্তঃ নেই। সেই কারণে নাপিতদের কদর ও প্রয়োজনীয়তা আজও ফুরিয়ে যায়নি। এক সময় হাট-বাজারের ফুটপাতে পিড়িতে বসে চুল দাড়ি কাটত মানুষ।

কিন্তুু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের চুল দাড়ি কাটার আদিপরিচিত দৃশ্য এখন অনেকটা কমে গেলেও এখনও জেলার সদর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চোখে পড়ে সেই দৃশ্য। তবে আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ফলে আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গতি ধারায় এসেছে পরিবর্তন। লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। হারিয়ে যেতে বসেছে হাটে-বাজারে বসা হাতুড়ে সেলুন।

জেলার সদর উপজেলার কৃষ্ণগোবিন্দপুর-কামারপাড়া গ্রামের নিবারন, সচেন ও ভোলানাথ শীল এখনো রামচন্দ্রপুরহাটে ফুটপাতে বসে চুল-দাড়ি কাটা অব্যহত রেখে পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। বয়োবৃদ্ধ নরসুন্দর ভোলানাথ শীল বলেন, বাংলা ১৪৫৬ সন থেকে দু পয়সা সেভ ও তিন পয়সা চুল কাটা শুরু করেছি। বর্তমান সেভ ১৫ টাকা ও চুল কাটা ৩০ টাকা। এটা আমার বাপ-দাদারা করে গেছে তাই এ পেশা আমি ধরে রেখেছি, বাপের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য। আধুনিক ছোঁয়া না লাগলেও বাপ-দাদার আমলের সেই স্মৃতি ধরে রেখেছেন সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরহাটের এই কয়েক জন নরসুন্দর বা নাপিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই ক্যাটাগরির আরও দেখুন